বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নিউজ২৪নারায়ণগঞ্জকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা কতটা একাট্টা হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। যেহেতু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যানের কঠোর বার্তা সত্ত্বেও দলটির অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ফলে বিএনপিকে অনেক আসন হারাতে হয়েছিল। তাই স্থানীয় নির্বাচনেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটে কিনা, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। দল ও এর তিন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান বক্তব্যেও এই ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে সরকারের বেশকয়েকজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলছেন, শিগগির স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে হাঁটতে যাচ্ছে সরকার। ওই অনুষ্ঠানে দলের নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে চান; তারা প্রস্তুতি নিন। জেলা ও উপজেলার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করুন, ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থেকে কোনো লাভ হবে না। কাউকে বিজয়ী করে আনা তাদের দায়িত্ব নয়। প্রশাসন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। প্রার্থীদের ভোটারের দুয়ারে পৌঁছাতে হবে, আস্থা অর্জন করতে হবে। যারা ভোটারের মন জয় করতে পারবে, তারাই নির্বাচিত হবে। এমন বার্তাকে তৃণমূলের জন্য যেমন সতর্কবাণী, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিউজ২৪নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সরকার প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বলেছেন স্থানীয় নির্বাচন শিগগিরই হবে, প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিতেও বলেন তিনি। যদিও নির্বাচনের সেই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়নি। তাছাড়া নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তারা তফসিল ঘোষণা করবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নেবে এটাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে সিটি কর্পেোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া তৈরি ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসিও প্রাক-প্রস্তুতি শুরু করেছ বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তার নির্বাচনে জয়লাভের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাই এ নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে বিএনপি। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের মাঠে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ছাড়া দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত ‘ক্লিন ইমেজ’ সম্পন্ন স্থানীয় প্রভাবশালীরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে। কেননা জাতীয় রাজনীতি আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলীয় প্রতীক না থাকায় ভোটারদের কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। এই সুযোগটি অনেকেই নিতে চাইবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সিটি ও পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় জেলা ও উপজেলা পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এখনও বহাল থাকলেও বেশিরভাগই পলাতক বা কাজে অনুপস্থিত। কিছু কিছু ইউনিয়ন পরিষদে ইউএনও বা সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও সব সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা এবং সবশেষে সিটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ইতি টানার সম্ভাবনাই বেশি থাকছে। তারা বলছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মাঠে থাকেন, তবে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা নেবে প্রতিপক্ষ।
নিউজ২৪নারায়ণগঞ্জ/আকাশ/২০২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন